পোস্টগুলি

নীতিশিক্ষামূলক গল্প লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

স্বর্গের পথ — কনফুসিয়াসের জ্ঞান ও সততার শিক্ষামূলক গল্প

ছবি
চীন আজও যাঁর আদর্শে মহিমান্বিত, তিনি কনফুসিয়াস। একসময় চীনের মানুষ মনে করত, কনফুসিয়াস এত জ্ঞানী যে তিনি অবশ্যই স্বর্গে যাওয়ার পথ জানেন। তাঁকে দেখলে সবাই শ্রদ্ধায় মাথা নত করত। কনফুসিয়াস সেসব শুনতেন, কিন্তু কিছু বলতেন না। সারা জীবন ধরে তিনি আরেকটি কাজ করে গিয়েছিলেন। বিখ্যাত মানুষদের যেখানে যত ভালো কবিতা, ভালো কথা পেয়েছেন, যত্ন করে সংগ্রহ করেছেন। সেই সংগ্রহ দিয়েই তৈরি করেছিলেন একটি পাঠাগার। এরপর একদিন কনফুসিয়াসের শরীর খারাপ হতে শুরু করল। দিন যায়, শরীর আরও দুর্বল হয়। তখন তাঁর ছেলে একদিন তাঁর শিয়রের পাশে এসে বসল। চোখে জল, গলায় কান্না। সে বলল, "বাবা, সবাই বলে আপনি স্বর্গে যাওয়ার পথ জানেন। তাহলে আপনার আর ভয় কীসের?" কনফুসিয়াস ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, "বাবা রে, সবাই বলে আমি স্বর্গে যাওয়ার পথ জানি। কিন্তু বাস্তবে আমি স্বর্গে যাওয়ার পথ জানি না।" ছেলে স্তব্ধ হয়ে গেল। কনফুসিয়াস একটু থেমে বললেন, "তবে তোকে একটা কথা বলি। এই যে পাঠাগারটা দেখছিস, তুই যদি এখানকার কবিতাগুলো পড়িস, তাহলে স্বর্গে গেলেও যেতে পারিস। কারণ এখানে বিখ্যাত মানুষদ...

বালির দানার অভিশাপ — একটি নৈতিক ও কল্পকাহিনি

ছবি
  অনেক অনেক দিন আগের কথা। নদীর ধারে ছোট একটা গ্রাম, আর সেই গ্রামে ছিল এক মেয়ে, নাম তার মালতী। তার রূপের কথা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল দূর-দূরান্তে। সে যখন নদীর ঘাটে জল আনতে যেত, বাতাসও যেন থমকে দাঁড়াত। চাঁদের আলোও তার মুখের কাছে ম্লান হয়ে যেত। লোকে বলত, "এমন রূপ মানুষের ঘরে জন্মায় না গো, এ নিশ্চয়ই কোনো দেবীর ছায়া।" সেই রূপের খবর একদিন পৌঁছে গেল স্বর্গ অবধি। এক সন্ধ্যায়, যখন আকাশে সোনালি আলো মিলিয়ে যাচ্ছে, নদীর ঘাটে এসে দাঁড়ালেন এক দেবতা। মালতীকে এক নজর দেখেই তাঁর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। হাজার বছরের স্বর্গবাসে এমন কিছু তিনি কখনো দেখেননি। হাত জোড় করে, কাঁপা গলায় বললেন, "আমি স্বর্গের দেবতা। তোমাকে দেখার পর থেকে আমার আর কিছুই ভালো লাগছে না। আমাকে বিয়ে করবে, মালতী?" মালতী অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। তার মনে ভয় ছিল। দেবতা তো চিরজীবী, আর সে মানুষ। আজ যে রূপ আছে, কাল তা থাকবে না। যে ভালোবাসা রূপ দেখে জন্মায়, রূপ গেলে সে কি টিকবে? তবু সে তাকাল দেবতার চোখের দিকে, সেখানে সত্যিকারের আকুলতা দেখতে পেল। সে নদীর ধারের দিকে আঙুল তুলল। সেখানে বিশাল এক বালির ঢিপি, সূর্যের শেষ ...