স্বর্গের পথ — কনফুসিয়াসের জ্ঞান ও সততার শিক্ষামূলক গল্প
চীন আজও যাঁর আদর্শে মহিমান্বিত, তিনি কনফুসিয়াস।
একসময় চীনের মানুষ মনে করত, কনফুসিয়াস এত জ্ঞানী যে তিনি অবশ্যই স্বর্গে যাওয়ার পথ জানেন। তাঁকে দেখলে সবাই শ্রদ্ধায় মাথা নত করত। কনফুসিয়াস সেসব শুনতেন, কিন্তু কিছু বলতেন না।
সারা জীবন ধরে তিনি আরেকটি কাজ করে গিয়েছিলেন। বিখ্যাত মানুষদের যেখানে যত ভালো কবিতা, ভালো কথা পেয়েছেন, যত্ন করে সংগ্রহ করেছেন। সেই সংগ্রহ দিয়েই তৈরি করেছিলেন একটি পাঠাগার।
এরপর একদিন কনফুসিয়াসের শরীর খারাপ হতে শুরু করল। দিন যায়, শরীর আরও দুর্বল হয়। তখন তাঁর ছেলে একদিন তাঁর শিয়রের পাশে এসে বসল। চোখে জল, গলায় কান্না। সে বলল, "বাবা, সবাই বলে আপনি স্বর্গে যাওয়ার পথ জানেন। তাহলে আপনার আর ভয় কীসের?"
কনফুসিয়াস ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, "বাবা রে, সবাই বলে আমি স্বর্গে যাওয়ার পথ জানি। কিন্তু বাস্তবে আমি স্বর্গে যাওয়ার পথ জানি না।"
ছেলে স্তব্ধ হয়ে গেল।
কনফুসিয়াস একটু থেমে বললেন, "তবে তোকে একটা কথা বলি। এই যে পাঠাগারটা দেখছিস, তুই যদি এখানকার কবিতাগুলো পড়িস, তাহলে স্বর্গে গেলেও যেতে পারিস। কারণ এখানে বিখ্যাত মানুষদের পবিত্র বাণী রয়েছে। এগুলো পড়লে তোর হৃদয়ও পবিত্র হবে। আর পবিত্র হৃদয় থাকলে মানুষ অবশ্যই স্বর্গে যেতে পারে।"
ছেলে বাবার হাতটা শক্ত করে ধরে রইল। সে বুঝল, তার বাবা শুধু জ্ঞানীই ছিলেন না। শেষ সময়েও তিনি নিজের না-জানা কথাটা সৎভাবে স্বীকার করার সাহস দেখিয়েছেন।
এভাবেই কনফুসিয়াস তাঁর ছেলের হাতে তুলে দিয়ে গেলেন সবচেয়ে দামি সম্পদ। সোনা-রুপা নয়, একটি পথ। পবিত্র হৃদয়ের পথ।
শিক্ষা: মানুষ আমাদের যত বড়ই ভাবুক, নিজের কাছে সৎ থাকাই সবচেয়ে বড় কথা। আর ভালো বাণী, ভালো বই, ভালো মানুষের সঙ্গ আমাদের হৃদয়কে পবিত্র করে। পবিত্র হৃদয়ই স্বর্গের পথ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন